২৪ বছরেও বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার হয়নি

প্রকাশিত: ১২:১৬ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২৪

জেলা প্রতিনিধি,নাটোরঃ  

কলাগাছে তৈরি শহীদ মিনারে এবছরও শ্রদ্ধা জানিয়েছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। অস্থায়ী শহীদ মিনারেই প্রতি বছর ভাষাশহীদদের প্রতি সম্মান জানানো হয়। এভাবে কেটে গেছে ২৪ বছর। এই দীর্ঘ সময়ে লক্ষ্মীপুর খোলাবাড়িয়া নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়টিতে শহীদ মিনার নির্মাণ হয়নি।নাটোরের লক্ষ্মীপুর খোলাবাড়িয়া ইউনিয়নে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল ১৯৯৯ সালে। সরকারি বিধি মতে, প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার স্থাপন বাধ্যতামূলক হলেও দুই যুগের পুড়নো এই বিদ্যালয়ে এখনো শহীদ মিনার নির্মাণ করা হয়নি।

জানা গেছে, খোলাবাড়িয়া নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়টি ৪ কিলোমিটার এলাকার একমাত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এ কারণে অন্তত পাঁচটি গ্রামের শিক্ষার্থীরা এই বিদ্যালয়ে আসে। বর্তমানে বিদ্যালয়ে ১০ জন শিক্ষক ও ২০০ শিক্ষার্থী রয়েছে। অথচ গুরুত্বপূর্ণ এই বিদ্যালয়টিতে দুই যুগেও শহীদ মিনার নির্মাণ করা হয়নি। শিক্ষকেরা চাঁদা তুলে কলা গাছ, ইট, বাঁশে সাদা কাপড় মুড়িয়ে খণ্ডকালীন শহীদ মিনার নির্মাণ করেছিলেন। ২১ ফেব্রুয়ারি সেখানেই ফুল দিয়ে ভাষা শহীদদের শ্রদ্ধা জানানো হয়েছে।

বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী সাদিয়া আক্তার, অষ্টম শ্রেণির সোহেব আলমসহ অন্তত দশজন শিক্ষার্থী জানান, এই যুগে এসেও তাদের বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার নেই। মাঠের এককোণে শহীদ মিনার বানিয়ে সেখনেই ফুল দিয়েছেন তারা। এখন একটি শহীদ মিনার নির্মাণের দাবি তাদের।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আবুল কাশেম বলেন, তার বিদ্যালয়ের অন্তত চার কিলোমিটারের মধ্যে কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। অথচ তাদের বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার নেই। ফলে তারা শিক্ষার্থীদের নিয়ে দিবসটি যথাযথ মর্যাদায় পালন করতে পারেন। বিষয়টি হৃদয়ে দাগ কাটে। করে ব্যথিত। একটি শহীদ মিনার নির্মাণের জন্য জনপ্রতিনিধিদের কাছে নিবেদন করেছেন বহুবার। প্রতিশ্রুতি পেয়েছেন ঠিকই কিন্তু শহীদ মিনার নির্মাণে কেউ এগিয়ে আসেনি।

বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি আব্দুল আউয়াল বলেন, প্রতিষ্ঠানে কোনো অর্থ নেই। এ কারণে তারা নিজেরা শহীদ মিনার নির্মাণ করতে পারেননি। তিনি নিজেও শহীদ মিনারের জন্য জনপ্রতিনিধিদের কাছে নিবেদন জানিয়েছেন।

নাটোরের মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নাজনীন তুলতানা বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার থাকা বাধ্যতামূলক হলেও এই বিদ্যালয় শহীদ মিনার না থাকাটা দুঃখজনক। তা ছাড়া শহীদ মিনার নির্মাণের জন্য তার দপ্তরে সরকারিভাবে কোনো বরাদ্দও নেই। এ কারণে স্থানীয়ভাবে শহীদ মিনার নির্মাণের জন্য বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন তিনি।নাটোর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সারমিনা সাত্তার বলেন, বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার না থাকার বিষয়টি তার জানা ছিল না। শিক্ষা কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে শহীদ মিনার নির্মাণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন তিনি।