হৃদয় ভাঙার জবাব কে দেবে

প্রকাশিত: ২:৩১ অপরাহ্ণ, জুন ২৭, ২০২৪

ক্রিয়া ডেস্ক:

দেশের কোটি কোটি ক্রিকেট অনুরাগীর কণ্ঠে হতাশা। যে তরুণেরা ক্রিকেট নিয়ে গর্ব করতেন, সে কণ্ঠে ক্রিকেটারদের বিরুদ্ধে কঠিন কঠিন শব্দ উচ্চারণ হচ্ছে। মুক্তার মতো শ্রুতিমধুর শব্দগুলো হারিয়ে এখন যা বেরিয়ে আসছে তা কানে তোলার মতো নয়। আধুনিক প্রযুক্তির দুনিয়ায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো না থাকলে কত কথাই অপ্রকাশিত থেকে যেত। কষ্ট ব্যথা যা কিছু আছে সবই ভেসে বেড়াচ্ছে হাতের তালুতে থাকা প্রযুক্তির দুনিয়ায়। বিশ্বকাপ টি-টোয়েন্টির মঞ্চ থেকে এভাবে বিদায় মেনে নিতে পারছেন না, হৃদয় ভেঙেছে কোটি কোটি ক্রিকেটানুরাগীর। কে দেবে হৃদয় ভাঙার জবাব।
কারো দোষে বাংলাদেশের বিদায় হয়ে গেছে, এবার তো সেটা বলা যাবে না। আফগানিস্তানের বিপক্ষে ১২.১ ওভারে কিংবা ৬২ রানের ব্যবধানে জিতলে সেমিফাইনালে যেতে পারে বাংলাদেশ। এটা দেশের সব ক্রিকেট দর্শক সমীকরণ করে বুঝলেও বোঝেননি যাদের হাতে ক্রিকেটের পতাকা। যারা মাঠে-ব্যাটবল নিয়ে লড়াই করছেন তারাই বুঝতে চাইলেন না। ওরা নাকি কোনো সমীকরণই করেনি। খেলার মাঠে শরীরী ভাষায় সেটাই ছিল স্পষ্ট। সাকিব আল হাসান হাসছিলেন। দেশের ক্রিকেট যাকে নিয়ে মাতামাতি সবচেয়ে বেশি প্রচারের আলোয় সেই গুণধর ক্রিকেটার আফগানিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের ক্রিকেটের খুব খারাপ সময়ে হাসছিলেন। একটি টিভি অনুষ্ঠানে এসে ২২ বছরের তরুণ আক্ষেপ নিয়ে বলছিলেন আফগানিস্তান যখন সেমিফাইনালে ওঠার আনন্দে কাঁদছিল, তখন আমাদের সাকিব হাসছিলেন। আহারে ক্রিকেট। যাদের জন্য আমরা জীবন ভাসিয়ে দেই তারা দেশের মানুষের আবেগ ভালোবাসা নিয়ে তুচ্ছতাচ্ছিল্যতা দেখায়।
একজন তরুণের সহজ সরল স্বীকারোক্তি—বাংলাদেশ জিতলে প্রধানমন্ত্রী, রাষ্ট্রপতি অভিনন্দন জানায়। প্রধানমন্ত্রী কত কিছু উপহার দেন। ক্রিকেটাররা মোটা অঙ্কের পারিশ্রমিক পান। বোনাস পান। কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা কামানোর পথ পান। আমরা সমর্থকরা তো কিছ্ ুপাই না। একটু আনন্দ করি, এই তো।
বিশ্বকাপে যাওয়ার আগেই অধিনায়ক নাজমুল হাসান শান্ত বলে গিয়েছিলেন খুব বেশি কিছু আশা না করার কথা। এই যদি হয় একজন অধিনায়কের কথা। অবাক করেছে দেশের ক্রিকেট ভক্তদের। নেপালের বিপক্ষে অনেক কষ্টে ম্যাচ জিতে সুপার এইটে ওঠে বাংলাদেশ। বলতে গেলে ভাগ্যের ওপর ভর করে উঠেছিল। আফগানিস্তানের ম্যাচের আগে সাকিব আল হাসান বলেছেন আমরা ৩টা জিতেছি আর ৩টা হেরেছি। আহামরি কিছু খারাপ হয়নি।
সুপার এইটে উঠে কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহে বলে দিলেন, ‘এখন ক্রিকেটটা এনজয় করো।’ বিশ্বকাপের যুদ্ধে গিয়ে আপনি এনজয় করবেন খেলাটা, আপনি কী দর্শক। নাকি নতুন করে ঝেড়ে মুছে কীভাবে এগিয়ে যাওয়া যায়—সেই পরিকল্পনায় বুঁদ হবেন কোচ-ক্রিকেটাররা। কোচের মুখে এনজয় করার কথা শোনেননি সাকিব। কোচ সংবাদ মাধ্যমের সঙ্গে কী বলছেন, সেটা নাকি সাকিব জানেনই না। এ কেমন দল। কেউ কারো খবর রাখেননি। বুঝতে বাকি থাকে না বাংলাদেশ দলের মধ্যে মশারির ভেতরে মশারি টাঙ্গানো রয়েছে। চন্ডিকা হয়তো বুঝিয়ে দিয়েছেন খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে সুপার এইটে ওঠা বাংলাদেশের এই ক্রিকেটারদের দিয়ে আর যা-ই হোক ভালো কিছু হবে না। এদের অনেকেরই সম্ভাবনা শেষ। কোনটা সঠিক। সম্ভাবনা শেষ হয়ে গেলে বিদেশি কোচিং স্টাফদের কাজটা কী, অথচ লাখ লাখ ডলার বেতন নিচ্ছেন তারা।

এখনকার দলের বেশির ভাগ খেলোয়াড় ক্রিকেট খেলে কোটিপতি হয়েছেন। দেশকে কতটা দিয়েছেন সেই আমলনামা টানলে প্রাপ্তির খাতায় ক্রিকেটাররা হবেন ঋণখেলাপি। অথচ এই ক্রিকেট দিয়ে অর্থ কামাই, একাধিক গার্ল ফ্রেন্ড, প্রেম, ভালোবাসা, বিয়ে, পরিবারের উন্নতি, সবই তো করেছেন, কিন্তু দেশকে কতটুকু দিয়েছেন সেটা কি একবার ভাবেন তারা। গুঞ্জন রয়েছে—খাবার টেবিলে খেতে গিয়ে একটা আপেলের গায়ে এক কামড় দিয়েই শেষ। ফেলে দিয়েছেন টেবিলে। রাজসিক ক্রিকেটারদের এমন অভ্যাস সাধারণও জেনে গেছে। রাজসিক জীবন তাতেও আক্ষেপ করেনি কেউ। দেশের সোনার ছেলে হিসেবে সম্মান দিয়েছেন সাধারণ দর্শক, দিন শেষে ওরাই তো আমাদের ছেলে।
সাকিবদের তুলনায় সুযোগ-সুবিধায় হাজার হাজার মাইল পিছিয়ে আফগানিস্তান। গত সিরিজে সাকিব আল হাসানের একটি প্রতিষ্ঠানের টাকায় জার্সি কিনে খেলতে গিয়েছিল আফগানিস্তান। রশিদ খানরা বছর জুড়ে মধ্যপ্রাচ্যে থাকেন। নিজের দেশে ক্রিকেট খেলতে পারেন না। যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ, বলার মতো কিছ্ ুনেই। আফগানিস্তানে স্টেডিয়ামের মাঠেও অস্ত্রের আনাগোনা। নিজেদের মাটিতে পা রাখতে পারেন না ক্রিকেটাররা। পরের দেশে খেলতে হয় যাদের, সেই ক্রিকেটাররা আফগানিস্তানের দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফুটিয়েছেন। আর শত গুণ সুযোগ-সুবিধা ভোগ করেও বাংলার ক্রিকেটাররা দেশকে কিছু দিতে পারছেন না। কেন পারছেন না তার কোনো জবাবদিহিতাও নেই। গত বিশ্বকাপে লজ্জায় ডুবিয়েছিল বাংলার ক্রিকেটাররা। তদন্ত কমিটি গঠন হয়, কিন্তু সেই রিপোর্ট দেখে কি সিদ্ধান্ত নিয়ে এবার দল পাঠিয়েছিলেন বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন।