সিলেটে বন্যা শেষ হওয়ার আগেই নতুন করে বন্যার শঙ্কা

প্রকাশিত: ৬:০২ অপরাহ্ণ, জুন ২৯, ২০২৪

সিলেট প্রতিনিধি:

সিলেটে বন্যা পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। অনেক এলাকা এখনো প্লাবিত আছে। এর মধ্যে আবার নতুন করে বৃষ্টি শুরু হয়েছে। আগামী কয়েক দিন ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এ অবস্থায় নতুন করে আবার বন্যার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

সিলেটের জেলা প্রশাসক শেখ রাসেল হাসান প্রথম আলোকে বলেন, ‘আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী আগামী ১ জুলাই পর্যন্ত বৃষ্টির পূর্বাভাস আছে। যেহেতু সিলেটে এখনো বন্যা পরিস্থিতি শেষ হয়নি, তাই স্থানীয় প্রশাসন বন্যা মোকাবিলার যাবতীয় কার্যক্রমের মধ্যেই আছে। যদি বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়, তাহলে সেই কার্যক্রমেরই সম্প্রসারণ ঘটবে।’

গোয়াইনঘাট ও কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার অন্তত পাঁচজন বাসিন্দা বলেন, সিলেটে চলমান বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। গত কয়েক দিন কাঠপোড়া রোদও ছিল। কিন্তু আজ জেলার বিভিন্ন স্থানে হালকা বৃষ্টি হয়েছে। এতে সদ্য বন্যা পরিস্থিতি থেকে রেহাই পাওয়া মানুষজন আবার আতঙ্কে আছেন। ভারী বৃষ্টি শুরু হলে আবার বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর গতকাল শুক্রবার সকাল ১০টা থেকে পরবর্তী ৭২ ঘণ্টা ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিলেও সিলেটে গতকাল ও আজ শনিবার হালকা বৃষ্টি হয়েছে। অন্যদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) আজ বেলা ৩টার সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, জেলার সুরমা, কুশিয়ারা, সারি, ডাউকি, সারি-গোয়াইন, ধলাইসহ বিভিন্ন নদ-নদীতে পানি সামান্য বেড়েছে। কুশিয়ারা নদীর ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার শূন্য দশমিক ৮৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়।

সিলেট আবহাওয়া অধিদপ্তরের সহকারী আবহাওয়াবিদ শাহ মো. সজীব হোসাইন বলেন, দেশে মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকায় আবহাওয়া অধিদপ্তর ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সতর্ক বাণী দিয়েছিল। গতকাল সকাল ছয়টা থেকে আজ সকাল ছয়টার মধ্যে ১৪ দশমিক ৯ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। আজ সকাল ৬টা থেকে বেলা ৩টা পর্যন্ত ৬ দশমিক ৪ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। এ ছাড়া গতকাল সকাল ৯টা থেকে আজ সকাল ৯টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় সিলেটের সীমান্তবর্তী ভারতের চেরাপুঞ্জিতে বৃষ্টি হয়েছে ১৪১ মিলিমিটার।

সরেজমিনে দেখা গেছে, সিলেটের ওসমানীনগর, ফেঞ্চুগঞ্জ, দক্ষিণ সুরমা ও বালাগঞ্জ উপজেলার অন্তত অর্ধশতাধিক গ্রাম এখনো প্লাবিত। এসব এলাকায় বন্যার পানি ধীরে ধীরে নামছে। অন্যদিকে কিছু এলাকায় পানি নেমে যাওয়ায় বন্যার ক্ষতচিহ্ন স্পষ্ট হতে শুরু করেছে। কোথাও কোথাও গ্রামীণ সড়ক ভেঙে গেছে। মানুষজনের বাড়িঘর দেবে গেছে। কারও কারও পুকুরের মাছ ভেসে যাওয়ার পাশাপাশি ফসল তলিয়েছে।

কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ইসলামপুর পশ্চিম ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সাবেক চেয়ারম্যান শাহ মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন বলেন, বৃষ্টি হলেই সিলেটের নিম্নাঞ্চলের মানুষ আতঙ্কে থাকেন। আজ সামান্য বৃষ্টি হয়েছে। এরপরও আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। যদি ভারতে বেশি বৃষ্টি হয়, তাহলে পাহাড়ি ঢলের আশঙ্কা থাকে।

এদিকে আজ বেলা ১১টায় গোয়াইনঘাট উপজেলায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যদের দক্ষতা উন্নয়ন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় জরুরি সাড়াদান পদ্ধতি শক্তিশালীকরণ বিষয়ে এক প্রশিক্ষণ কর্মশালা হয়েছে। উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. তৌহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রণালয়ের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের যুগ্ম সচিব মো. শাহ আলম। বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন গোয়াইনঘাট উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহ আলম (স্বপন), মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান খোদেজা রহিম (কলি) ও ভাইস চেয়ারম্যান গোলাম আম্বিয়া কয়েছ এবং জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আবদুল কুদ্দুস বুলবুল।

কর্মশালায় বন্যা ও দুর্যোগকালে নিরাপদে লোকজনকে সরিয়ে নিতে আশ্রয়কেন্দ্র স্থাপন, উদ্ধারকাজ চালানো, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিতকরণ, বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা, ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের তালিকা তৈরি ও শুকনা খাবার বিতরণসহ নানা বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

এর আগে ভারী বৃষ্টি ও উজান থেকে আসা পাহাড়ি ঢলে গত ২৯ মে সিলেট ও সুনামগঞ্জে বন্যা দেখা দেয়। ৮ জুনের পর বন্যা পরিস্থিতি অনেকটা স্বাভাবিক হয়ে আসে। সর্বশেষ ১৭ জুন শুরু হওয়া টানা বৃষ্টিতে সিলেট ও সুনামগঞ্জে দ্বিতীয় দফায় বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়। এতে সিলেট নগরের ২৪টি ওয়ার্ডসহ ১৩টি উপজেলা ও সুনামগঞ্জের ১৩টি উপজেলা কমবেশি প্লাবিত হয়। এখন পরিস্থিতির উন্নতি হলেও নতুন করে ভারী বৃষ্টির আশঙ্কায় বন্যার আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।