রাজস্ব খাতের সংস্কারে কমিশন গঠনের প্রস্তাব অর্থনীতি সমিতির

প্রকাশিত: ১১:৪৪ পূর্বাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২০, ২০২৪

সেলিনা আক্তারঃ

রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি এবং রাজস্ব খাতের সংস্কারে একটি কমিশন গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশে অর্থনীতি সমিতি। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কাছে প্রাক-বাজেট প্রস্তাবনায় কর প্রদানের ব্যবস্থা সহজ করার পাশাপাশি ধনীদের কাছ থেকে বেশি কর আদায়ের প্রস্তাব দিয়েছে অর্থনীতি সমিতি।

প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, কালোটাকা সাদা করার সুযোগ বন্ধ রাখতে হবে। পাচারকৃত টাকা ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিতে হবে। দেশে ধনী ও উচ্চমধ্যবিত্ত মানুষদের ৮৭ শতাংশ কোনো ধরনের আয়কর দেন না, যা খুবই অগ্রহণযোগ্য। এই অবস্থার নিরসন করতে হবে। রবিবার এই প্রস্তাবনা এনবিআরের নিকট তুলে ধরেন সমিতির সাধারণ সম্পাদক আইনুল ইসলাম। প্রস্তাবনায় উল্লেখ করা হয়েছে, অর্থনীতি সমিতি মনে করে, চলমান অর্থনৈতিক সংকট থেকে পুনরুজ্জীবনে রাজস্ব আদায় বাড়াতে ২৭টি উৎস আছে।

এগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো কালোটাকা উদ্ধার থেকে প্রাপ্তি; পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধার থেকে প্রাপ্তি; সম্পদ কর; অতিরিক্ত মুনাফার ওপর কর; বিলাসী পণ্যের ওপর কর; বিদেশি নাগরিকদের ওপর কর আরোপ ইত্যাদি। বিশেষ করে ৪টি উৎস বিশেষ জোর দেওয়া শুরু করা প্রয়োজন: কালোটাকা উদ্ধার, পাচারকৃত অর্থ উদ্ধার, সম্পদ কর এবং অতিরিক্ত মুনাফার ওপর কর। আসন্ন বাজেটের জন্য সম্পদ আহরণের পদ্ধতি হিসেবে সরকারের রাজস্ব আয়ের ক্ষেত্রে ব্যাপক জনগোষ্ঠী, যেমন দরিদ্র-নিম্নবিত্ত-নিম্নমধ্যবিত্ত-মধ্যমধ্যবিত্তদের ওপর কোনো ধরনের চাপ প্রয়োগ করা যাবে না। কারণ, নানা কারণে এই শ্রেণির মানুষেরা এখন প্রচণ্ড অর্থনৈতিক সংকটে রয়েছেন।

কর আহরণে নানা কৌশলে তাদের ওপর অতীতের মতো পুরোপুরি নির্ভর করা এ মুহূর্তে অন্যায় হবে। প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, ব্যক্তি ও কর্পোরেট পর্যায়ে ব্যাপক কর-রাজস্ব ফাঁকি দেওয়া হয়। এ লক্ষ্যে কর-প্রশাসনের সংস্কারসহ বিভিন্ন কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। সবধরনের সিগারেটের ওপর ৭০ শতাংশ হারে একক সম্পূরক শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করা হয় সমিতির পক্ষ হতে। এনবিআরে সংস্কারের সুপরিশ তুলে ধরে বলা হয়, রাষ্ট্রীয় বাজেটের দুর্দশা নিরসনে আমরা বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে একটি ‘রাজস্ব কমিশন’ গঠনের প্রস্তাব করছি, যা কাজ হবে জনগণকে কম কষ্ট দিয়ে সরকারের আয় বৃদ্ধির পথ-পদ্ধতি, ব্যবস্থাপনার দক্ষতা বৃদ্ধি, ফাইন্যান্সিয়াল সিস্টেম গতিশীল করা, দুর্নীতি দমন কমিশনকে সহায়তা প্রদান, পর্যাপ্ত রাজস্ব সংগ্রহ, সরকারি ব্যয় ও অপচয় হ্রাস, এসব বিষয়ে সুনির্দিষ্ট পরামর্শ দেওয়া। ১৯৮৪ সালের আইন অনুযায়ী বিদেশি নাগরিকেরা বাংলাদেশে ট্যাক্স প্র্যাকটিস করতে পারেন না। কিন্তু এই আইন পাশ কাটিয়ে বৈধ ওয়ার্ক পারমিট ছাড়াই বিদেশিরা এখানে কর এবং ভ্যাট অফিসে প্র্যাকটিস করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে এনবিআরকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সুপারিশ করা হয়।