যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে ইউরোপ: পোল্যান্ড

প্রকাশিত: ১১:৪৮ পূর্বাহ্ণ, মার্চ ৩০, ২০২৪

আন্তর্জাতিক ডেস্ক রিপোর্টঃ 

পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্ক সতর্ক করে বলেছেন, ইউরোপ এখন যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে রয়েছে। ইউরোপের ভালোর জন্য রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধে ইউক্রেনকে অবশ্যই জয়ী হতে হবে। ইউক্রেন যদি এই যুদ্ধে জয়ী হতে না পারে তবে তা পুরো ইউরোপের জন্যই বিপদ ডেকে আনবে বলে সতর্ক করেন তিনি। খবর বিবিসির।

ডোনাল্ড টাস্ক বলেন, যুদ্ধ এখন আর অতীতের কোনো ধারণা নয়। যুদ্ধ এখন বাস্তব আর এটা দুই বছর আগেই শুরু হয়ে গেছে। বৃহস্পতিবার ইউক্রেনে রাশিয়া নতুন করে কয়েক দফা ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর এমন সতর্কবার্তা দিলেন পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী।

চলতি সপ্তাহে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন, ন্যাটো দেশগুলোতে হামলা চালানোর কোনো পরিকল্পনা মস্কোর নেই। তিনি বলেন, ন্যাটোভুক্ত কোনো দেশকে আক্রমণের পরিকল্পনা নেই আমাদের। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও তার পশ্চিমা মিত্ররা যদি ইউক্রেনকে এফ-১৬ যুদ্ধবিমান সরবরাহ করে, তাহলে সেগুলো দেখা মাত্রই গুলি করে ভূপাতিত করবে আমাদের বাহিনী।

পুতিন বলেন, ১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর থেকে মার্কিন নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট ন্যাটো রাশিয়ার পূর্ব দিকে তাদের অবস্থান প্রসারিত করেছে। কিন্তু এই জোটের কোনো দেশকে আক্রমণের পরিকল্পনা নেই আমাদের। তবে ইউক্রেন যদি তৃতীয় কোনো দেশের বিমান ঘাঁটি ব্যবহার করে, তাহলে সেগুলো আমাদের বৈধ লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হবে, সেটা যেখানেই অবস্থিত হোক না কেন।

ইউক্রেনে পাঠানো পশ্চিমাদের এফ-১৬ যুদ্ধবিমান সম্পর্কে জানতে চাইলে রুশ প্রেসিডেন্ট বলেন, এ ধরনের বিমান ইউক্রেনকে যুদ্ধের পরিস্থিতি পরিবর্তনে কোনোভাবেই সাহায্য করবে না। পাইলটদের এই যুদ্ধবিমান পরিচালনার প্রশিক্ষণ দিলেও লাভ হবে না। এফ-১৬ পারমাণবিক অস্ত্রও বহন করতে পারে, তাই আমরা এগুলোকে দেখলেই ধ্বংস করবো।

রাশিয়া ইউক্রেনে আগ্রাসন শুরুর পর থেকে পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক সবচেয়ে নিম্ন পর্যায়ে গিয়ে ঠেকেছে। ইউক্রেনে সর্বশেষ রুশ হামলায় প্রায় ১০০টি ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে। এর ফলে বেশ কয়েকটি অঞ্চল আংশিক বিদ্যুবিচ্ছিন্ন অবস্থার সম্মুখীন হয়েছে।এক সপ্তাহের ব্যবধানে এটি ছিল রাশিয়া দ্বিতীয় বৃহত্তম আক্রমণ। ইউক্রেনের বিভিন্ন স্থানে একযোগে বিপুল সংখ্যক অস্ত্র ব্যবহার করে হামলা চালানো হয়।

ডোনাল্ড টাস্ক বলেন, রাশিয়ার রাজধানী মস্কোর কনসার্ট হলে সাম্প্রতিক হামলার ঘটনায় কোনো প্রমাণ ছাড়াই ইউক্রেনকে দায়ী করছেন প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তিনি ইউক্রেনে বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুগুলোতে হামলা আরও জোরদার করেবেন সেটা আগে থেকেই অনুমান করা যায়।