মানবিক কারনে খালেদা জিয়ার মুক্তির আহ্বান

প্রকাশিত: ৮:২৫ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১১, ২০২০

মানবিক দিক বিবেচনায় নিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি বা জামিন দেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তার বোন সেলিমা ইসলাম। তিনি বলেন, খালেদা জিয়া গুরুতর অসুস্থ। মুক্তি না হলে তো তার উন্নত চিকিৎসা করানো যাচ্ছে না। হাসপাতালে ডাক্তারা যে চিকিৎসা দিচ্ছে তাতে তার শারীরিক অবস্থার কোনও উন্নতি হচ্ছে না। ডাক্তারা যা বলেছেন তার কোনোটাই সত্য নয়।

 

মঙ্গলবার (১১ ফেব্রুয়ারি) বিকালে বঙ্গবন্ধুর শেখ মুজিব মেডিক্যাল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) কারাবন্দি খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে তিনি এসব কথা বলেন।

 

উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজনে খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবি জানিয়ে তার বোন সেলিমা ইসলাম বলেন, তার বয়স, অসুস্থতা এসব মানবিক দিক বিবেচনায় নিয়ে আমরা তার মুক্তির জন্য সরকারের প্রতি দাবি করছি। তার উন্নত চিকিৎসা খুবই প্রয়োজন। তার শরীর এত খারাপ যে এই মুহূর্তে যদি চিকিৎসা না দেওয়া যায়, তাহলে তার কী হবে সেটা আমরা বলতে পারছি না। আমাদের আবেদন তাকে মুক্তি দেওয়া হোক যেন চিকিৎসাটুকু করতে পারি।

 

পরিবারের পক্ষ থেকে খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য বিশেষ আবেদন করবেন বলেছিলেন, তা করেছেন কিনা জানতে চাইলে সেলিমা ইসলাম বলেন, ‘না, এখনও কারও কাছে আবেদন করিনি। জাতির কাছে আবেদন করছি। তার জন্য দোয়া করবেন। তার মুক্তির জন্য আপনারাও চেষ্টা করবেন।’

 

পরিবারের পক্ষ থেকে আজ বিএসএমএমইউ কর্তৃপক্ষের কাছে একটা আবেদন করেছেন, সেটা কী বিষয়ে জানতে চাইলে সেলিমা ইসলাম বলেন, ‘তার মুক্তির জন্য। তাকে তো মিথ্যা একটা মামলায় সাজা দেওয়া হয়েছে। আজকে দুই বছর কারাগারে আছেন। তিনি যে অবস্থায় কারাগারে এসেছেন, হেঁটে-চলে বেড়াতেন। এখন তো সেই অবস্থায় নেই। ৫ মিনিটও দাঁড়াতে পারেন না। বিছানা থেকে বাথরুমের দূরত্ব ২-৩ হাত হবে। এইটুকু যেতে তার ২০ মিনিটের মতো সময় লাগে। তার আসলেই উন্নত চিকিৎসা প্রয়োজন।’

 

বোন সেলিমা ইসলাম বলেন, ‘আজকেও তার সুগার ১৬-১৭ ছিল। খালেদা জিয়ার বাম হাত সম্পূর্ণ বেঁকে গেছে। এখন ডান হাতটাও বেঁকে যাচ্ছে।  খেতে পারছে না। খেলেই বমি হয়ে যাচ্ছে। গায়ে জ্বর ও প্রচণ্ড ব্যথা, কেউ গায়ে হাত দিলেই ব্যথায় চিৎকার করছে।’

 

এর আগে বেলা সাড়ে ৩ টায় বিএসএমএমইউতে খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যান তার মেঝ বোন সেলিমা ইসলাম, বেয়াইন ফাতেমা রেজা, ছোট ভাইয়ের স্ত্রী কানিজ ফাতেমা, ভাগ্নি শাহিনা জামান খান ও ছোট ভাইয়ের ছেলে অভিক ইস্কান্দার। তারা বিকাল ৪ টা ৪৫ মিনিটে হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে আসেন।