মন্ত্রী যেতেই পঞ্চগড় এক্সপ্রেসে পুরোনো বগি, ক্ষোভে ফুঁসছেন যাত্রীরা 

প্রকাশিত: ২:১৬ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২২, ২০২৪

জেলা প্রতিনিধি ,ঠাকুরগাঁওঃ 

রেলপথ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রিত্ব হারাতেই সাবেক রেলমন্ত্রী অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম সুজনের এলাকায় এবার সংযোজিত হলো ১৮ বছরের পুরোনো বগির জরাজীর্ণ সংকীর্ণ সিট। এ নিয়ে ক্ষোভে ফুঁসছেন যাত্রী ও স্থানীয় বাসিন্দারা।যাত্রীরা বলছেন, দেশের সবচেয়ে দীর্ঘ বিরতিহীন ট্রেন সার্ভিস পঞ্চগড় এক্সপ্রেসের ইন্দোনেশিয়া থেকে আমদানি করা আধুনিক সুবিধাসম্পন্ন ট্রেনটির বগি পরিবর্তন করে সংযোজন করা হয়েছে দীর্ঘদিনের পুরোনো আর ভাঙাচোরা সিট। যেসব বগি মুড়ির টিনের মতো। ট্রেনের সিটগুলো এতটাই সংকীর্ণ যে বসতে গেলে সিটের সঙ্গে হাঁটু আটকে যায়। সেইসঙ্গে রয়েছে কাছাকাছি বসা যাত্রীর চাপ।

যাত্রীদের দাবি, নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে এভাবে পুরোনো সিটগুলো দিয়ে যাত্রীদের হয়রানি করছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। বিষয়টির দ্রুত সমাধান করা উচিত। তা না হলে রেলপথ ভ্রমণে মুখ ফিরিয়ে নেবে সাধারণ মানুষ।জানা যায়, ঢাকা থেকে ৬৩৯ কিলোমিটারের দীর্ঘ রেলপথের তালিকায় ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড় জেলার নাম রয়েছে। ট্রেনযাত্রায় স্বস্তি হওয়ায় এ দুটি জেলার মানুষের নিরাপদ যাতায়াতে এখন প্রথম পছন্দ রেলপথে ভ্রমণ। ফলে গত দুই দশক ধরে এই দুটি জেলার মানুষের মাঝে ঢাকায় যাতায়াতে ট্রেনের চাহিদা দিন দিন বেড়েছে।

এর মধ্যে পঞ্চগড়-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. নূরুল ইসলাম সুজন ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তৃতীয় বারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। নতুন সরকারের রেলপথ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব গ্রহণ করেন তিনি। তার প্রচেষ্টায় পঞ্চগড়-ঠাকুরগাঁও-ঢাকার রেলরুটে তিনটি আন্তঃনগর ট্রেন চালু হয়। এর মধ্যে ২০১৯ সালে পঞ্চগড় এক্সপ্রেস নামে আরও একটি ট্রেন পঞ্চগড়-ঠাকুরগাঁও-ঢাকা পথে সংযোজিত হয়।পঞ্চগড় এক্সপ্রেস ইন্দোনেশিয়া থেকে আমদানি করা আধুনিক সুবিধাসম্পন্ন ট্রেনটি মোট ১২টি বগি নিয়ে পঞ্চগড়-ঠাকুরগাঁও-ঢাকা পথে সরাসরি চলাচল করে আসছে। কিন্তু এর মধ্যে রেল মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রিত্ব পদ হারানোর পর পঞ্চগড়-ঠাকুরগাঁও আন্তঃনগর ট্রেনগুলোতে সংযুক্ত করা হয়েছে অনেকদিনের পুরোনো নড়বড়ে ও মেয়াদোত্তীর্ণ বগি।

যাত্রীদের অনেকে পঞ্চগড় এক্সপ্রেসে সংযুক্ত বগি দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করে ঠাকুরগাঁও রোড স্টেশন মাস্টার মো. আক্তারুলকে ভর্ৎসনা করে তর্কে জড়িয়ে পড়েন। তবে স্টেশন মাস্টার জানান, রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ অনুযায়ী এসব পরিবর্তন হয়েছে।তিনি আরও বলেন, ঠাকুরগাঁও থেকে আগে যে রেলের বগিগুলো চলাচল করতো সেগুলোর বগি ছিল নতুন। কিন্তু বর্তমানে যে বগিগুলো দেওয়া হয়েছে সেগুলো পুরাতন। গত ২৭ ডিসেম্বর রেলের বগিগুলো পরিবর্তন করা হয়। বগিগুলোর সিট যদিও ছোট কিন্তু সিট সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে।

অন্যদিকে রেলের বগি পরিবর্তন নিয়ে উত্তরবঙ্গের মানুষের মধ্যে বেশ আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এটা নিয়ে লেখালেখি করে মানুষ ক্ষোভ প্রকাশ করছেন।এ বিষয়ে কালাম নামে এক যাত্রী বলেন, আমি রেলে প্রতিনিয়ত যাওয়া আশা করি। আগের যে সিটগুলো ছিল সেগুলো অনেক ভালো ছিল। বর্তমান যে সিটগুলো দেওয়া হয়েছে সেগুলো খুব খারাপ, চাপা ও পুরাতন। আমাদের এখান থেকে ঢাকার দূরত্ব সবচেয়ে বেশি। কিন্তু আমাদের নতুন সিট অন্য জায়গায় নিয়ে আমাদের পুরাতন বগিগুলো দেওয়া হয়েছে।

কামরুল হাসান নামে এক টিটি বলেন, আগের সিটগুলো নতুন ছিল। কিন্তু বর্তমানের সিটগুলো অনেক পুরাতন এবং এখানে নামাজঘর নাই। এই বগিগুলোর সিট অনেক চাপা।পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের জিএম মো. আবদুল আউয়াল ভুঁইয়া বলেন, ঠাকুরগাঁওয়ে যে বগিগুলো চলাচল করতো সেগুলো ছিল চায়না বডি। সেগুলো খুব বেশি নষ্ট হয়ে যেত। তাই এই বগিগুলোকে রাজশাহীতে নিয়ে আসা হয়েছে। অন্যদিকে রাজশাহীর যে বগিগুলো ছিল সেগুলো ছিল ইন্ডিয়ান বগি। এগুলো লং পথ পাড়ি দিলেও নষ্ট হয় না। সেইজন্য এটা পঞ্চগড় ঠাকুরগাঁওয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে যে বগিগুলো দেওয়া হয়েছে সেগুলো ১৮ বছরের পুরাতন বগি।