ফল ও সবজিতে রাসায়নিক পদার্থ, কী করবেন

প্রকাশিত: ৪:৩৩ অপরাহ্ণ, জুন ২৯, ২০২৪

লাইফস্টাইল ডেস্ক:

চলছে ফলের মৌসুম। বাজারে সুস্বাদু রসালো ফলের সমাহার। কিন্তু ফল খেতে গিয়ে অনেকের মনে একটি ভয় কাজ করে, তা হলো ফরমালিন। অনেকে ফরমালিনের ভয়ে ফল খাওয়াই বন্ধ করে দিয়েছেন। শিশুদেরও ফল খাওয়াচ্ছেন না।

আসলে ফল বা শাকসবজি ফরমালিন দিয়ে সংরক্ষণ করার প্রয়োজন হয় না। ফরমালিন শুধু প্রোটিনজাতীয় খাদ্য সংরক্ষণেই ব্যবহার করা হয়। তাই নিশ্চিন্তে সব ধরনের ফল ও শাকসবজি খেতে পারেন। এরপরও ফল ও শাকসবজিতে ফরমালিন আছে সন্দেহ হলেও খেতে পারবেন। খাওয়ার আগে ভালোভাবে ফল ও সবজি ধুয়ে নেবেন। ফরমালডিহাইড পানিতে দ্রবণীয়; তাই ভালো করে ধুয়ে নিলে ফরমালিন দূর হয়।

আবার ফল পাকাতে যেসব উপাদান (যেমন কার্বাইড) ব্যবহৃত হয়, তা সরাসরি খেলে ক্ষতিকর। কার্বাইড এসিটিলিন গ্যাস নির্গমনের মাধ্যমে একটা গরম পরিবেশ তৈরি করে; যাতে ফলের ভেতর ইথিলিন তৈরি হয় এবং ফল পেকে যায়। এ কার্বাইডের সঙ্গে ফলের সংস্পর্শ ঘটে না। তবে ফলের সঙ্গে সংস্পর্শ ঘটলে স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে।

ফল পাকাতে ইথোফেন কার্বাইড অপেক্ষা নিরাপদ। ফল পাকাতে কার্বাইড বা ইথোফেন ব্যবহার করলেও এর পরিমাণ নির্দিষ্ট সীমায় রাখতে হবে।

কৃত্রিমভাবে পাকানো ফলের পুষ্টিগুণ কেমন, তা নির্ভর করে ফলের পরিপক্বতার ওপর। যদি পরিপক্ব ফল কৃত্রিম উপায়ে পাকান, সেটির পুষ্টিগুণ প্রাকৃতিকভাবে পাকা ফলের কাছাকাছিই হবে। কিন্তু যদি অপরিপক্ব হয়, তবে পুষ্টিগুণ অবশ্যই কমবে।

অনেক সময় আমরা দেখি, বিক্রেতারা শাকসবজি রঙিন পানিতে ডুবিয়ে দোকানে সাজিয়ে রাখেন। এগুলো ফরমালিন নয়, রং। এটি শাকসবজি সংরক্ষণে নয়, আরও রঙিন দেখাতে ব্যবহার করা হয়। অনেকে খুব সস্তা রং ব্যবহার করেন, যা অবশ্যই স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে। তাই এসব রংমিশ্রিত শাকসবজি খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।

সতর্কতা
● অপরিপক্ব ফল কৃত্রিম উপায়ে পাকালে খাবেন না।

● আম, কলা, পেঁপে—এগুলো খাওয়ার আগে ভালো করে ধুয়ে নিন। এরপর খোসা ফেলে দিলেই নিরাপদ হয়ে যাবে।

● দু–তিন রকম ফল একসঙ্গে খাবেন না। এতে অ্যাসিডিটি হওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকে।

● প্রধান খাবারের সঙ্গে ফল খাবেন না, স্ন্যাকস হিসেবে খাবেন।

● কিডনি, ডায়াবেটিসের রোগী ফল খাওয়ার ব্যাপারে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেবেন।

●ফল কখনো ব্লেন্ড করে খাবেন না। ব্লেন্ড করলে ফলের পুষ্টিগুণ নষ্ট হয়।

*মো. ইকবাল হোসেন, জ্যেষ্ঠ পুষ্টি কর্মকর্তা, চট্টগ্রাম ডায়াবেটিক জেনারেল হাসপাতাল