ফতোয়ার ভয় জয় করে কোহিস্তানে নারী প্রার্থীদের প্রচারণা

প্রকাশিত: ৫:১৩ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ৬, ২০২৪

আন্তর্জাতিক ডেস্ক রিপোর্টঃ 

পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া (কেপি) প্রদেশের কোহিস্তানে স্থানীয় আলেমদের ফতোয়া উপেক্ষা করে নির্বাচনি প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন চার নারী প্রার্থী। ৮ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে অংশ নিতে তাদের হুমকি ও কট্টর পিতৃতান্ত্রিক সমাজকে মোকাবিলা ও সামাজিক বাধা অতিক্রম করতে হচ্ছে। মঙ্গলবার (৬ ফেব্রুয়ারি) পাকিস্তানের সংবাদ মাধ্যম ডন-এর এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

পাকিস্তানের রক্ষণশীল খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের কোহিস্তানের পার্বত্য অঞ্চলে প্রায় ৮ লাখ লোকের বাসস্থান। গত সপ্তাহে এখানে নারী প্রার্থীদের পক্ষে প্রচারণায় অংশ নেওয়ার বিরুদ্ধে এক ফতোয়া জারি করেছেন কোহিস্তানের মুসিলম আলেমরা। এই আলেমদের বেশিরভাগই জমিয়ত উলেমা-ই-ইসলাম-ফজলের সদস্য। নারী প্রার্থীদের নির্বাচনি প্রচারণায় অংশ নেওয়াকে অনৈসলামিক বলে ঘোষণা করেছেন তারা। ফতোয়ায়, একজন নারীর অন্যদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে ভোট চাওয়ার ঘটনার তীব্র নিন্দা জানানো হয়েছে। তাদের দাবি, কোহিস্তান অঞ্চলের ৩০ জন ‘ইসলাম বিশেষজ্ঞ’ ও অন্তত ৪০০ আলেম ফতোয়াটিকে সমর্থন করেছেন।

কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, অতিশয় পুরুষতান্ত্রিক সমাজে বাস করেও, সামাজিক বাধা ভেঙে আসন্ন ৮ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন কোহিস্তানের চার নারী প্রার্থী। ফতোয়ার এই হুমকি উপেক্ষা করেই নির্বাচনি প্রচারণায় অংশ নিচ্ছেন তারা।এই চার প্রার্থী হচ্ছেন-তেহমিনা ফাহিম, শাকিলা রব্বানী, সান্নায়া সাবিল ও মোমিনা বাসিত। খাইবার পাখতুনখোয়ার হাজারা জেলার কোহিস্তান এবং তোরঘর অঞ্চলের রক্ষণশীল নির্বাচনি এলাকায় প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী প্রথম নারী প্রার্থী তারা।

চারজনের মধ্যে তিনজনই দাঁড়িয়েছেন পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) সমর্থিত দল থেকে। দলীয় টিকিট না পাওয়ায় স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন সান্নায়া সাবিল-অবশ্য তিনি পিটিআইয়ের সঙ্গেও যুক্ত।কোহিস্তান এমন একটি জেলা যেখানে নারী ও মেয়েদের প্রতি সহিংসতার জন্য কুখ্যাত। লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা ও বাল্যবিবাহ এখানে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। এখানকার আদিবাসী নারীদের মধ্যে সাক্ষরতার হার খুবই কম। ৯৭ শতাংশ নারী জানিয়েছেন, তারা কখনোই কোনও স্কুলে যাননি।

আপার কোহিস্তান পিকে-৩১ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তেহমিনা ফাহিম। তিনি জানিয়েছেন, ‘পিতৃতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থার কারণে এখানকার নারীরা তাদের অধিকার সম্পর্কে একেবারে অন্ধ। ভোট চাওয়ার জন্য নারীদের সঙ্গে দেখা করার অনুমতিও নেই এখানে।’ ফলে তার প্রচারাভিযান জেলার পিটিআইয়ের কিছু উদারমনা কর্মীদের মধ্যেই সীমিত।তোরঘর পিকে-৪১ আসনের প্রার্থী শাকিলা রাব্বানী। তার প্রচারণাও নারী প্রার্থী হিসেবে তাকে স্বাগত জানানো অল্প কিছু মানুষের মধ্যে সীমাবদ্ধ।

তবে আশার কথা হচ্ছে, ন্যাশনাল কমিশন অন দ্য স্ট্যাটাস অব উইমেন (এনসিএসডব্লিউ)-এর প্রধান নিলোফার বখতিয়ার কোহিস্তানে জারি করা ফতোয়াটিকে বিবেচনায় নিয়েছেন। নারীদের জন্য প্রতিকূলতা মুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে অবিলম্বে প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রধান নির্বাচন কমিশনারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।এদিকে, পাকিস্তানের মানবাধিকার কমিশনের (এইচআরসিপি) আঞ্চলিক সমন্বয়কারী জাহিদ খান ফতোয়াকে নারী অধিকারের পরিপন্থি বলে অভিহিত করেছেন। তার মতে, এই অঞ্চল থেকে একজন নারী আইনপ্রণেতা নির্বাচিত হলেই কেবল, তাদের সমস্যাগুলো পার্লামেন্টে আলোচনার জন্য উঠে আসবে।