পারভীনের দায় নিয়ে জানতে চেয়েছে কানাডার পুলিশ

প্রকাশিত: ১১:০২ পূর্বাহ্ণ, জুন ২৯, ২০২৪

ঢাকা প্রতিনিধি:

রাজধানীর বসুন্ধরার ভাড়া ফ্ল্যাটে গত মাসে জাপান প্রবাসী আরিফুল ইসলাম নামে এক যুবককে হত্যার পরদিন কানাডায় উড়াল দিয়েছিলেন পারভীন আক্তার। খুনের দায় মাথায় নিয়ে এরপর থেকে কানাডাতেই রয়েছেন তিনি। এরই মধ্যে রয়্যাল কানাডিয়ান মাউন্টেড পুলিশ (আরসিএমপি) বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে এ ব্যাপারে যোগাযোগ করেছে। এই ঘটনাটির বিষয়ে রয়্যাল পুলিশ জানতে চেয়েছে। বাংলাদেশের কাছে এখন পর্যন্ত যতটুকু তথ্য রয়েছে তা কানাডার সঙ্গে আদান-প্রদান হয়েছে। একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র এসব তথ্য জানিয়েছে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলের সঙ্গে সমন্বয়কারী ঢাকায় পুলিশ সদরদপ্তরের ন্যাশনাল সেন্টার ব্যুরোর (এনসিবি) এআইজি আলী হায়দার চৌধুরী বলেন, ‘আরিফুল খুনের ব্যাপারে কানাডা পুলিশের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ চলছে। তারা বেশ কিছু বিষয় জানতে চেয়েছে। তবে কানাডার সঙ্গে আমাদের বন্দি প্রত্যর্পণ চুক্তি নেই। তাই অভিযুক্ত পারভীনকে ফেরত আনা কঠিন। বঙ্গবন্ধুর খুনিও দীর্ঘদিন কানাডায় রয়েছে। আমরা তাকেও ফেরত আনতে পারছি না।

আরিফুল হত্যায় অভিযুক্ত পারভীন হোয়াটস অ্যাপে সমকালকে বলেন, ‘কোন পরিস্থিতিতে ওই হত্যার ঘটনা ঘটেছে এটা নিয়ে আমার কোনো লুকোচুরির কিছু নেই। দায় নিতেও প্রস্তুত আমি। আমার জীবন তো শেষ হয়ে গেল। আরিফুলই এর জন্য দায়ী। তার পরিবারের সদস্যরাও কম দায়ী নন। দিনের পর দিন সব দেখেও চোখ বন্ধ করে রেখেছিলেন তারা। আমার সংসারও শেষ। বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে অসত্য বলতে চাই না।’

পারভীন আরও বলেন, ‘কানাডায় এসেছিলাম জীবনকে সুন্দরভাবে সাজাতে। আরিফুলও বলেছিল, কানাডায় গেলে আমার সঙ্গে আর যোগাযোগ করবে না। কারণ সেও জাপানে গিয়ে বিয়ে করে নতুন সংসার শুরু করেছে। তবে কথা রাখেনি সে। বিভিন্ন ধরনের ছবি এবং ভিডিও পরিচিতদের কাছে পাঠিয়ে আমার জীবন অতিষ্ঠ করে তুলেছিল। বাংলাদেশে ফেরত আসতে বাধ্য করে। নিজের জীবন শেষ করার ছক করেই কানাডা থেকে চলে এসেছি। দেশে এসে ফের তার নির্যাতনের মুখোমুখি হই। তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্তে তাকে দুনিয়া থেকে শেষ করে দিয়েছি।’
পারভীন জানান, কানাডায় এখন অসুস্থ তিনি। কয়েকদিন হাসপাতালে ছিলেন। মালয়েশিয়া প্রবাসী তাঁর ভাই দু-একবার ফোন করে খবর নিয়েছেন। দেশে ফেরত যেতেও প্রস্তুত তিনি।