কারাগার থেকে ফাঁসির আসামির পলায়ন, ৩ কারারক্ষী বরখাস্ত

প্রকাশিত: ১০:৫৭ পূর্বাহ্ণ, জুন ২৭, ২০২৪

বগুড়া প্রতিনিধি:

বগুড়া কারাগারের কনডেম সেলের ছাদ ফুটো করে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত চার আসামি পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে প্রধান কারারক্ষীসহ তিন জনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলার প্রক্রিয়া চলছে।

এছাড়া অপর দুই কারারক্ষীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। বুধবার (২৬ জুন) রাতে জেল সুপার আনোয়ার হোসেন এ সিদ্ধান্ত দিয়েছেন বলে কারাগারের দায়িত্বশীল সূত্র বাংলা ট্রিবিউনকে নিশ্চিত করেছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে জেলা কারাগারের এক কর্মকর্তা বাংলা ট্রিবিউনকে জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার থেকে জেলা প্রশাসন ও ডিআইজি প্রিজনের গঠিত পৃথক কমিটি ঘটনার তদন্ত শুরু করবে। প্রাথমিকভাবে দায়িত্ব অবহেলায় কারণে প্রধান কারারক্ষী দুলাল হোসেন, কারারক্ষী আবদুল মতিন ও কারারক্ষী আরিফুল ইসলামকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলার প্রক্রিয়া চলছে। এছাড়া কারারক্ষী ফরিদুল ইসলাম ও কারারক্ষী হোসেনুজ্জামানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

এর আগে দুপুরে এ ঘটনায় বগুড়া জেলা প্রশাসকের গঠিত ছয় সদস্যের এবং অতিরিক্ত কারা মহাপরিদর্শক শেখ সুজাউর রহমান সুজার নেতৃত্বে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়।

পুলিশ ও কারা সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে পরিকল্পনা করে মঙ্গলবার রাতে কনডেম সেলের ছাদ কেটে কাপড়ের রশি বানিয়ে ছাদ থেকে নেমে পালিয়ে যান চার কয়েদি। ভোর সাড়ে ৪টার দিকে জেলখানার অদূরে বাজার থেকে তাদের গ্রেফতার করে পুলিশ।

তিন কারারক্ষীকে সাময়িক বরখাস্ত ও দুজনকে শোকজ করার ব্যাপারে জানতে বুধবার রাতে বগুড়া জেলা কারাগারের জেল সুপার আনোয়ার হোসেন এবং জেলার ফরিদুল ইসলাম রুবেলের মোবাইল নম্বরে একাধিকবার কল দিলেও রিসিভ করেননি। তবে বগুড়ার জেলা প্রশাসক সাইফুল ইসলাম বলেন, এ ধরনের ব্যবস্থা নেওয়ার কথা শুনেছি।

ওই চার কয়েদি হলেন কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারী উপজেলার দিয়াডাঙ্গা গ্রামের মৃত আজিজুল হকের ছেলে নজরুল ইসলাম মঞ্জুর (৬০), নরসিংদীর মাধবদী উপজেলার ফজরকান্দি গ্রামের মৃত ইসরাফিল খাঁর ছেলে আমির হোসেন (৩৮), বগুড়া সদরের কুটুরবাড়ি পশ্চিমপাড়ার ইসমাইল শেখ চাঁদ মিয়ার ছেলে ফরিদ শেখ (২৮) এবং কাহালু উপজেলার উলট পূর্বপাড়ার বাসিন্দা ও বিএনপি সমর্থিত কাহালু পৌর মেয়র আবদুল মান্নান ওরফে ভাটা মান্নানের ছেলে মো. জাকারিয়া (৩১)।
সদর থানার ওসি সাইহান ওলিউল্লাহ জানান, জাকারিয়া বগুড়ার কাহালুর শিশু নাইমকে হত্যা ও লাশ ইটভাটায় পুড়িয়ে ফেলার মামলার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি। ফরিদ শেখ, নজরুল ইসলাম মঞ্জুর ও আমির হোসেন চারটি হত্যা মামলার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি।

বগুড়ার পুলিশ সুপার সুদীপ কুমার চক্রবর্ত্তী বলেন গ্রেফতার কয়েদিরা জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন তারা কারাগারের বাথরুমে থাকা বালতির লোহার হাতল সোজা করে সেটি দিয়ে এক মাস ধরে ছাদ ছিদ্র করেন। এর আগে কাপড় ও বিছানার চাদর জোড়া দিয়ে রশি বানিয়ে সেটি দেয়ালে আটকানো হয়। এরপর এটার ওপর দাঁড়িয়ে ছাদ ছিদ্র ও কনডেম সেল থেকে বেরিয়ে যান। কয়েদিরা ছাদের যে জায়গাটি ছিদ্র করার জন্য বেছে নিয়েছিলেন, সেটি বাথরুমের মধ্যে এবং বাইরে থেকে দেখা যায় না। কারারক্ষীদের চোখ ফাঁকি দিতেই তারা ওই অংশটি বেছে নেন।

অতিরিক্ত কারা মহাপরিদর্শক শেখ সুজাউর রহমান সুজা বলেন, বগুড়া কারাগার ১৮৮৩ সালে প্রতিষ্ঠিত। ১৪১ বছরের প্রাচীন কারাগার চুন-সুরকির গাঁথুনি দিয়ে নির্মিত। ছাদে রড নেই। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত চার কয়েদি ছাদ ছিদ্র করেন। বিছানার চাদর দিয়ে রশি বানিয়ে দেয়াল বেয়ে পালিয়ে যান। বুধবার ভোর ৪টা ১০ মিনিটে তাদের গ্রেফতার করা হয়। তাদের কাছে স্ক্রু ড্রাইভার ও লোহার হাতল পাওয়া গেছে। এসব দিয়েই কয়েদিরা কনডেম সেলের ছাদ ছিদ্র করেছিলেন।

সদর থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) শাহিনুজ্জামান শাহিন জানান, পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় জেলার ফরিদুল ইসলাম রুবেল বুধবার দুপুরে ওই চার কয়েদির বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। ওই মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।

বগুড়া আদালত পুলিশের পরিদর্শক মোসাদ্দেক হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, পালিয়ে যাওয়ার পর তাদের আবার গ্রেফতার করে বগুড়ার অতিরিক্ত চিফ

জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সুকান্ত সাহার আদালতে হাজির করা হয়। পরে তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত। বিকালে কারাগারে পাঠানো হয়।