আফগান রূপকথা থামিয়ে প্রথমবার বিশ্বকাপ ফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকা

প্রকাশিত: ১০:৩৬ পূর্বাহ্ণ, জুন ২৭, ২০২৪

ক্রিয়া ডেস্ক:

ওয়ানডে আর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ মিলিয়ে সাতবার সেমিফাইনাল খেলেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। কিন্তু প্রতিবার সেমির দুয়ার থেকেই বিদায় নিয়েছে দলটি। সর্বশেষ ২০১৪ সালের আসরেও ভারতের কাছে হেরে স্বপ্ন ভঙ্গ হয়েছে। এবার অবশ্য সেই ভাগ্য বদলেছে তারা। প্রথমবার সেমিফাইনাল খেলতে নামা আফগানিস্তানকে ৯ উইকেটে হারিয়ে প্রথমবার কোনও বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেছে দক্ষিণ আফ্রিকা।

চলতি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে চমক দেখানো আফগানিস্তানকে শেষচারে আর কোনও রূপকথা লিখতে দেয়নি প্রোটিয়া দল। বরং নিজেদের ইতিহাস বদলাতে রশিদ খানদের অল্পতেই গুটিয়ে দিয়েছে। পরে সেই লক্ষ্য ৮.৫ ওভারে তাড়া করেছেন মারক্রামরা।
তার আগে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের নকআউটে সর্বনিম্ন রানের ইতিহাস গড়েছে আফগানিস্তান। ১১.৫ ওভারে অলআউট হয়েছে মাত্র ৫৬ রানে। যা তাদের টি-টোয়েন্টির সর্বনিম্নও।

ত্রিনিদাদের ব্রায়ন লারা স্টেডিয়ামে প্রত্যাশা পূরণ করতে ব্যর্থ হয়েছে আফগান দল। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রোটিয়া বোলিংয়ের সামনে ধসে পড়ে তাদের ব্যাটিং লাইনআপ।

সেমির আগে নানা কথার লড়াইয়ে প্রোটিয়াদের বিপদে ফেলার চেষ্টা করেছে আফগান দল। কিন্তু ব্যাট হাতে সেটার প্রতিফলন দেখা যায়নি। পাওয়ার প্লেতেই শুরু হয়ে যায় বিপর্যয়। ২৩ রানের মধ্যে হারায় ৫ উইকেট। রহমানউল্লাহ গুরবাজ (০), গুলবাদিন নাইব (৯), ইব্রাহিম জাদরান (২), মোহাম্মদ নবী (০) ও নানগায়েলিয়া খারোটে (২) ব্যর্থ হয়েছেন। তার পর ব্যর্থতার মিছিলই চলেছে। সর্বোচ্চ স্কোর বলতে ওমরজাইর ১০ রান।

এক কথায় প্রোটিয়াদের বোলিং বিভাগের সামনে দাঁড়াতেই পারেনি তারা। শেষ দিকে ৬ রানে দ্রুত ৩ উইকেট নেন রিস্ট স্পিনার তাবরাইজ শামসি। টপ অর্ডারে মূল আঘাতটা করেছেন পেসার মার্কো ইয়ানসেন। ১৬ রানে ৩টি উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরা তাই তিনি। দুটি করে নিয়েছেন কাগিসো রাবাদা ও আইনরিখ নর্কিয়া।

মামুলি এই লক্ষ্য বাধা হওয়ার কথা ছিল না দক্ষিণ আফ্রিকার। কিন্তু চাপে পড়লে পুরোনো রোগে ভেঙে পড়ার ইতিহাস আছে দলটির। দ্বিতীয় ওভারে কুইন্টন ডি কককে ফিরিয়ে তেমন শঙ্কা জাগিয়েছিলেন পেসার ফজল হক ফারুকি। যদিও ঝলকটা ছিল ওই পর্যন্তই। এবার যে ভাগ্য বদলানোর মিশনে নেমেছে তারা। ওপেনার রিজা হেন্ড্রিকস আর অধিনায়ক এইডেন মারক্রামের দাপুটে ব্যাটিংয়ে ৬৭ বল হাতে রেখে ১ উইকেট হারিয়ে লক্ষ্য ছুঁয়েছেন। ২৫ বলে ৩ চার ও ১ ছক্কায় অপরাজিত ছিলেন হেন্ড্রিকস। ২১ বলে ২৩ রানে অপরাজিত ছিলেন মারক্রাম।