আত্মগোপনে থেকেও র‌্যাবের হাতে ধরা ফাঁসির আসামি শুকর আলী

প্রকাশিত: ১১:৪২ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১২, ২০২৪

সাইফুল ইসলাম:
২০০২ সালে কর্তব্যরত আনসার সদস্যকে গুলি করে হত্যা করায় মৃত্যুদন্ড প্রাপ্ত ও পুলিশ সদস্যকে হত্যাচেষ্টার দায়ে যাবজ্জীবন কারাদন্ড প্রাপ্ত পলাতক আসামি শুকর আলী ওরফে সোহেল ওরফে সোহাগ আত্মগোপনে থেকেও শেষ রক্ষা পায়নি। অবশেষে ২২ বছর পর তাকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। আজ সোমবার (১২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজার র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।
তিনি বলেন, ২০০২ সালের ১২ মার্চ রাজধানী মোহাম্মদপুরের শ্যামলী এলাকায় ছিনতাইকারীদের গুলিতে কর্তব্যরত অবস্থায় একজন আনসার সদস্য ফজলুল হক গুলিবিদ্ধ হন। এছাড়া এ ঘটনায় একজন পুলিশ সদস্য গুরুতর জখম হন। পরে তাদের চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক আনসার সদস্য ফজলুল হককে মৃত ঘোষণা করেন। এই ঘটনায় পুলিশ কনস্টেবল আকমান হোসেন বাদী হয়ে রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানায় সন্ত্রাসী শুকর আলী ওরফে সোহেলসহ ৩ জনের নামে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলা রুজুর বিষয়টি জানতে পেরে আসামিরা আত্মগোপনে চলে যায়। পুলিশ তাদের গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করে। এরপর শুকরসহ গ্রেফতার বাকি আসামিরা জামিনে মুক্ত হয়ে আবার আত্মগোপনে চলে যায়।
কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, এদিকে মামলার তদন্ত শেষে ২০০৩ সালের ৩১ মার্চ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। মামলার বিচার কাজ শেষে ২০১৯ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর ৩ আসামিকে মৃত্যুদÐাদেশ দেন আদালত। একই মামলায় পুলিশ কনস্টেবল আবদুল জলিল ফরাজীকে হত্যাচেষ্টার দায়ে আসামি শুকর আলী ওরফে সোহেলকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে ছয় মাস সশ্রম কারাদন্ডে দন্ডিত করেন আদালত।
তিনি আরও বলেন, এই মামলায় দীর্ঘদিন পলাতক আসামিদের গ্রেফতারে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করে র‌্যাব। এরই ধারাবাহিকতায় গত রাতে র‌্যাব-১০ এর একটি আভিযানিক দল গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ও তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় রাজধানীর সাভার এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে শুকর আলীকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতার শুকর আলী জিজ্ঞাসাবাদে জানায়, হত্যাকান্ডে দিন দুপুরে শুকর আলী তার অপর দুই সহযোগীদের নিয়ে ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে রাজধানী মোহাম্মদপুরের শ্যামলী এলাকায় ‘দূর দূরান্ত’ নামক একটি বাস কাউন্টারের সামনে অবস্থান করে। এরপর শুকর আলী ও তার সহযোগীরা মিলে অজ্ঞাত একজনের কাছ থেকে ছিনতাইয়ের চেষ্টা করে। তখন ওই এলাকায় কর্তব্যরত পুলিশ কনস্টেবল আকমান হোসেন, কনস্টেবল আব্দুল জলিল ফরাজী ও আনসার সদস্য ফজলুল হক দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে ছিনতাইকারী শুকর আলীসহ ৩ জনকে আটকের চেষ্টা করে। এসময় গ্রেফতার শুকর আলী ও তার অপর সহযোগীরা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে তাদের কাছে থাকা রিভলভার দিয়ে এলোপাতাড়ি গুলি করে। এতে আনসার সদস্য ফজলুল হক গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হয় এবং একজন পুলিশ সদস্যকে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে গুরুতর জখম করে। অন্য পুলিশ সদস্য আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি করলে শুকর আলী ও তার অন্যান্য সহযোগীরা কৌশলে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
র‌্যাবের মুখপাত্র বলেন, গ্রেফতার শুকর আলী ১০ বছর বয়স থেকেই বিভিন্ন অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে। পরে সে মোহাম্মদপুরসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ছিনতাই, ডাকাতি, হত্যা, অপহরণ ও মাদক ব্যবসাসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী কার্যক্রম করতো বলে জানা যায়। সে আনসার সদস্য ফজলুল হত্যাকান্ড ঘটনায় প্রায় সাড়ে ৩ বছর কারাভোগের পর জামিনে বের হয়ে আত্মগোপনে চলে যায়। শুকর আলী চট্টগ্রামসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় গ্রেফতার এড়ানোর লক্ষ্যে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ছদ্মবেশ ধারণ ও নাম পরিবর্তন করে কিছুদিন পর পর তার অবস্থান পরিবর্তন করতো। শুকর আলী এর আগে মাদক সংক্রান্ত মামলায় প্রায় ৪ বছর, অস্ত্র সংক্রান্ত মামলায় প্রায় ৫ বছর ও অপহরণসহ বিভিন্ন মামলায় বিভিন্ন মেয়াদে কারাভোগ করেছে বলে জানা যায়। তার বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় অস্ত্র, ডাকাতি ও মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধে ১৫টির অধিক মামলা রয়েছে। এক প্রশ্নের জবাবে কমান্ডার মঈন বলেন, এই সন্ত্রাসী দলের নেতৃত্বে থাকা কয়েকজন বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছে। তারপর আবার যারা এটার নেতৃত্ব এসেছিলো তাদের কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আসলে এই ধরনের সন্ত্রাসী গ্রæপগুলোর নতুন নতুন নেতৃত্ব আসে। এখন যদি আবার কেউ এই দলের নেতৃত্বে আসে তাহলে তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।