‘অনেকেই মরণোত্তর পান, আমি জীবদ্দশায় পেয়েছি–এটি পরম সৌভাগ্যের’

প্রকাশিত: ১:১৭ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২২, ২০২৪

বিনোদন ডেস্ক রিপোর্টঃ 

ডলি জহুর। টিভি নাটক ও চলচ্চিত্রের বরেণ্য অভিনেত্রী। এবার পেয়েছেন একুশে পদক। পদক প্রাপ্তি ও অন্যান্য প্রসঙ্গে কথা হয় তার সঙ্গেএকুশে পদকে ভূষিত হওয়ায় আপনাকে অভিন্দন। এই স্বীকৃতি পাওয়ার পর কেমন লাগছে ?এ অনুভূতি ব্যাখ্যা করা কঠিন। যে কোনো পুরস্কার প্রাপ্তিই আনন্দের। ভীষণ ভালো লাগছে। অনেকেই মরণোত্তর পদক পান। আমি জীবদ্দশায় পেয়েছি– এটি পরম সৌভাগ্যের। সবাই আমাকে অভিনন্দন জানাচ্ছেন,ভালো লাগছে। এটাই জীবনের আনন্দ।

কখনও কী মনে হয়েছে এ স্বীকৃতি আরও আগেই পাওয়া উচিত ছিল?

অনেকেই বলেছেন, এ পুরস্কার আমার আগেই পাওয়া দরকার ছিল। কিন্তু এমনটি আমি কখনও মনে করিনি। এটি যখন পাওয়ার তখনই পান মানুষ। পদক না পেয়ে কেউ কেউ মনকষ্টে আছেন। এবার যারা পদক পাননি আগামীতে পাবেন। যাদের গুণ থাকবে রাষ্ট্র নিশ্চয়ই তাদের পুরস্কার দেবে। যারা কষ্ট নিয়ে এখন নানা কথা বলছেন, তারাও একদিন পাবেন।

আপনার কাছে সেরা পুরস্কার কোনটি?

দর্শকের ভালোবাসাই আমার কাছে সেরা পুরস্কার। ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই এটি বলে আসছি। দর্শক যেদিন আমাকে পছন্দ কিংবা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করবেন না, দেখেও না দেখার ভান করবেন;আমি হাজারটা পুরস্কার নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকলেও কেউ আমার দিকে তাকাবেন না। পুরস্কার নিয়ে দর্শক ধরে রাখা মুশকিল। দর্শকদের ধরে রাখতে হয় অভিনয় গুণ ও ভালোবাসা দিয়ে। দর্শক যদি আমাকে ভালো না বাসেন তাহলে পুরস্কার দিয়ে কতটা লাভবান হবো। দর্শকের ভালোবাসায় পুরস্কারের মূল্যায়ন বাড়ে।

অভিনয় জীবেন কার কার অবদানকে বড় করে দেখছেন?

বিয়ের আগে বাবার অনেক সহযোগিতা পেয়েছি। এরপর স্বামীও বেশ সাপোর্ট করেছেন। তাঁর সহযোগিতা না পেলে নির্ভাবনায় এতদূর আসতে পারতাম না। সে নিজেও বড় অভিনেতা ছিলেন। নির্মাণও করতেন। এ শিল্পকে খুব ভালোবাসতেন। তিনি বেঁচে থাকলে একুশে পদক প্রাপ্তিতে খুশি হতেন।

জীবনের চাওয়া-পাওয়ার প্রশ্নে কী বলবেন?

একজীবনে অনেক পেয়েছি। দর্শক আমাকে ভালোবাসা দিয়েছেন। তাঁদের ভালোবাসার ডানায় ভর করে আমৃত্যু অভিনয় করে যেতে চাই।

অভিনয়ের পাশাপাশি পরিচালনাও শুরু করেছেন। নির্মাণ নিয়ে কিছু ভাবছেন?

পরিচালনা নিয়ে কোনো পরিকল্পনা নেই। যদি সময়-সুযোগ হয় হঠাৎ করে কিছু নির্মাণ করতে পারি। পরিচালনা অনেক বড় ব্যাপার। ইদানীং শারীরিক অসুস্থতা বেড়েছে। কাজ না থাকলে ঘরে বসে থাকি।

এই সময়ের ব্যস্ততা কী নিয়ে?

মাতিয়া বানু শুকুর রচনা ও পরিচালনায় ‘কুসুম কথা’ নামে বিটিভির একটি ধারাবাহিকে অভিনয় করছি। চাইলেও প্রতিদিন অভিনয় করা যায় না। ক্যারিয়ারের এ সময়ে এসে তা করতে পারি না। অনেক স্ক্রিপ্ট জমা হয়ে আছে। বেশিরভাগই মানহীন। এগুলোতে কেন অভিনয় করব?

ওটিটিতে কাজের আগ্রহ কেমন?

চাইলেই তো আমি ওটিটিতে কাজ করতে পারি না। যারা নির্মাণ করেন তাদেরও আমাকে পছন্দ হতে হবে। ভালো গল্প ও চরিত্রও দরকার। যুতসই গল্প ও চরিত্র পেলে ওটিটিতে অভিনয়ে আপত্তি নেই।

মঞ্চ দিয়ে অভিনয় শুরু করেছেন। সেই মঞ্চে আপনি এখন আর নেই…

মঞ্চ নাটক করা আমার নেশা। এখানে কাজ করতে সবসময় মন চায়। ‘আরণ্যক’ নাট্যদলের রিহার্সাল হয় ধানমন্ডিতে। আর আমি থাকি উত্তরায়। সেখান থেকে এসে রিহার্সাল করা আমার জন্য কষ্টকর। তাছাড়া মঞ্চ নাটকে অনেক সময় দিতে হয়। টিভি নাটক ও চলচ্চিত্রের অভিনয় ব্যস্ততায় ২০ বছর ধরে মঞ্চে কাজ করছি না। যদি সময় বের করতে পারি অবশ্যই মঞ্চে ফেরার ইচ্ছা রয়েছে।